বন্ধ হয়ে গেলো নৈহাটি জুটমিল! হাজার হাজার কর্মীর মাথায় হাত।

বন্ধ হয়ে গেলো নৈহাটি জুটমিল

প্রায় সময় ধর্মঘট বা যেকোনো কারণেই মিল কলকারখানা এগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতন ঘটনা শোনা যায়। তেমনি শনিবার সকালেই বন্ধ হয়ে গেল নৈহাটির পরিচিত জুটমিল। বিপাকে পড়লেন হাজার হাজার কর্মীরা। কিন্ত হঠাৎ কেন বন্ধ হয়ে গেল জুটমিল?

এর আগে অন্নপূর্ণা কটন মিল থেকে শুরু করে অন্যান্য অনেক মিল কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হঠাৎ করে কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে সবথেকে সমস্যায় পড়ে সেখানকার শ্রমিকরা। কোনরকম নোটিশ না দিয়ে হঠাৎ কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে মাসিক রোজগার স্তব্ধ হয়ে যায়। তেমনি শনিবার সকালেই ‘সাসপেনশন অব ওয়ার্কস”-এর নোটিস লাগানো বোর্ড জুটমিলের মেইন দরজায় ঝুলানো অবস্থা দেখতে পায় জুট মিলের কর্মরত একজন শ্রমিক। এই নোটিশ দেখার পরেই জুটমিলের শ্রমিকদের এক প্রকার মাথায় হাত পড়ার মতন অবস্থা হয়। এমনিতেই বেতন খুব অল্প পরিমাণ দেওয়া হয় জুটমিলের শ্রমিকদের। তারপরে কোনরকম খবর না দিয়ে এরকম নোটিশ দেখে চক্ষু ছানাবড়া অবস্থা। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কথা ভেবে শ্রমিকদের রীতিমত ভয়ংকর অবস্থা।

নৈহাটি জুটমিল

জানা যাচ্ছে, নৈহাটির জুটমিলের কর্তৃপক্ষ নোটিশের উল্লেখ করেছেন, পাটের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি এবং উত্পাদন ও প্রক্রিয়াকরণের সমস্যা জনিত কারণে এর জন্যই আপাতত বন্ধ থাকবে জুটমিল। যদিও এই নোটিশ একেবারেই অনিশ্চিত ছিল শ্রমিকদের কাছে। প্রত্যেক দিনের মতনই সকালেই তারা জুট মিলে কাজ করতে এসেছিলেন। কিন্তু দরজা বন্ধ অবস্থায় এরকম জুটমিল বন্ধের নোটিশ তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে একবারও ভাবতে পারেননি।

জুটমিলের শ্রমিকদের কথায় জানা যাচ্ছে, জুটমিলে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ পাট মজুদ রয়েছে যেগুলি থেকে এখনো উৎপাদন সম্ভব। শুধুমাত্র পাটের অভাব বা অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে জুটমিল এহাবে বন্ধ করে দেওয়া কখনোই মেনে নেওয়া যায় না, তাই তারা প্রতিবাদ দেখাচ্ছে জুট মিলে কর্তৃপক্ষের কাছে।

বন্ধ হয়ে গেলো নৈহাটি জুটমিল! হাজার হাজার কর্মীর মাথায় হাত।

জুটমিলের শ্রমিকদের একটাই দাবি কোনরকম বকেয়া দাবি না মিটিয়ে এইভাবে জুটমিল বন্ধ করে দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সংসার খরচ কিভাবে চালাবে এটি ভেবেই তারা খুবই উদ্বিগ্নতার মধ্যে রয়েছে। জুটমিলের কর্মীরা, প্রশাসনের দারস্ত হতে চাইছেন। যাতে তাদের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হয় এবং পুনরায় জুটমিল খুলে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কারণ জুটমিল একমাত্র তাদের সংসার খরচ চালানোর কর্মসংস্থানের বাহক ছিল সেখানে হঠাৎ করে কোনো রকম নোটিশ না দিয়ে জুট মিল বন্ধ করে দেওয়ায় হাজার হাজার কর্মীরা হঠাৎ করেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন যা ভবিষ্যতের জন্য আশঙ্কা তৈরি করেছে তাদের মনে।

তবে শ্রমিকদের দাবি দেওয়া মেনে নেওয়া এবং পুনরায় জুটমিল খুলবে কিনা, তা এখনো সময় সাপেক্ষ বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন: পঞ্চায়েত কর্মীদের বদলির নির্দেশ! দ্রুত নিয়োগ ১১,১৫৪ টি শূন্যপদে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *