রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের সূচনা করা বিভিন্ন স্কলারশিপের নাম যেমন আমরা শুনতে পাই, ঠিক তেমনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কিছু স্কলারশিপ দেওয়া হয়, তেমন একটি উল্লেখযোগ্য এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপ হল যেএন টাটা এনডাউমেন্ট স্কলারশিপ(Jn Tata Endowment Scholarship)। টাটা গ্রুপের এটি একটি অন্যতম দারুণ উদ্যোগ বলা যায়। মেধাবী ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের উচ্চ শিক্ষার জন্য আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় এই স্কলারশিপ এর মাধ্যমে। যারা বিদেশে পড়তে যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য টাটা গ্রুপের এই স্কলারশিপ ভবিষ্যতের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার পথ খুঁজে পাবে। মূলত টাটা এনডাউমেন্ট স্কলারশিপ বিদেশে পড়াশোনা করার জন্য লোনের স্পন্সর করে। তবে এই লোনের জন্য সুদের পরিমাণ খুবই সামান্য রাখা হয়।
যে সমস্ত মেধাবী পড়ুয়া রয়েছেন যাদের দুর্দান্ত মেধা থাকায় বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়ার চান্স পেয়ে যান বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে, কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট বাধা হয়ে দাঁড়ায় উচ্চ শিক্ষার জন্য। তাদের জন্য খুব সহজেই এবং অল্প সুদে টাকা ধার নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় এই টাটা এন্ডোমেন্ট স্কলারশিপ। তবে এটি একটি মেধাবৃত্তিক আর্থিক বৃত্তি প্রদান প্রকল্প। এই প্রকল্পে আবেদন করলে কাদের প্রকল্পের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে, অর্থাৎ যোগ্যতা কি দরকার? আবেদন কিভাবে করবেন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সমস্ত বিস্তারিত তথ্য জানাবো আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
যেএন টাটা এন্ডরোমেন্ট স্কলারশিপ(Jn Tata Endowment Scholarship) মূলত বিদেশে উচ্চশিক্ষা করার জন্যই বৃত্তিমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হয়। যে সমস্ত মেধাবী পড়ুয়ারা বিদেশে পোস্ট গ্রাজুয়েট, পিএইচডি এবং পোস্ট ডক্টোরাল কোর্স করার জন্য চান্স পেয়েছেন তাদেরকেই স্কলারশিপের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়।
আরোও পড়ুন: Chhatrapati Shahu Maharaj scholarship: ছত্রপতি শাউ স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা জানুন বিস্তারিত।
এক কথায় বলা যায় যেএন টাটা এনডাউমেন্ট স্কলারশিপ শুধুমাত্র সাধারণ স্কলারশিপের বিভাগে পড়ে না। এটি একটি লোন ভিত্তিক স্কলারশিপ। খুবই অল্প পরিমাণ অর্থাৎ মাত্র দুই শতাংশ হারে সুদ নেওয়া হয়ে থাকে।
- লোন পরিমাণ দেওয়া হয় ১ লক্ষ থেকে শুরু করে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
- লোন নেওয়ার পর শিক্ষার্থী তার পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর থেকে ৩ বছর থেকে ৭ বছরের মধ্যে সুদ বিহীন শুধু মূলধন রিটার্ন করতে হয়। মোট পাঁচটি কিস্তিতে লোন রিটার্ন করতে পারা যায়।
- লোন প্রদান ছাড়াও পড়াশোনার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত রেজাল্ট করা হলে গিফট ভাউচার হিসেবে ২ লক্ষ থেকে ৭.৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় এবং ভ্রমণ করার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
- এ স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য যে যোগ্যতা গুলো দেখা হয় তার মধ্যে হল আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতে নাগরিক হতে হবে।
- গ্রাজুয়েশন স্তরে বা পোস্ট গ্রাজুয়েশন স্তরে ৬০ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।
- বিদেশের যেকোনো ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি, পোস্ট গ্রাজুয়েট বা পোস্ট ডক্টর আর ডিগ্রী নিয়ে ভর্তি হতে হবে।
- বয়স হতে হবে ৪৫ বছরের মধ্যে।
আবেদনকারীরা আবেদন করার পর যেএন টাটা এন্ডোমেন্ট স্কলারশিপ(Jn Tata Endowment Scholarship) এর পক্ষ থেকে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হবে। তারপর একটি অনলাইন পরীক্ষা নেওয়া হবে ক্রিটিক্যাল লজিক বিষয়ের ওপর। সেই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই জেএন টাটা এনরোমেন্ট স্কলারশিপের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং বিদেশে পড়াশোনার খরচ হিসেবে লোন প্রদান করা হবে সেই পড়ুয়াকে।
সবমিলিয়ে যে সমস্ত ভারতীয় পড়ুয়া দুর্দান্ত মেধা থাকা সত্ত্বেও বিদেশে পড়াশোনার জন্য অর্থনৈতিক খরচ বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য যেএন টাটা এন্ডরোমেন্ট সংস্থার পক্ষ থেকে এই স্কলারশিপ উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নকে এবং কেরিয়ার গঠনের এক অন্যতম ধাপ হিসাবে কাজ করে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্ভবত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে থাকে এবং মে পাস পর্যন্ত চলে। যে সমস্ত পড়ুয়া অত্যন্ত মেধাবী তারা একবার হলেও বিদেশে পড়াশোনার জন্য অর্থনৈতিক সাহায্যের ক্ষেত্রে যেএন টাটা এন্ডরোমেন্ট স্কলারশিপে আবেদন করে দেখতে পারো।