ভারতের বেশিরভাগ নারী গৃহবধূ হিসেবে জীবন কাটিয়ে দেয়। গৃহবধূদের মূলত কাজ থাকে বাড়ির অন্দরমহলের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা। পরিবারের সকলের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য রান্নাবান্না থেকে শুরু করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে পরিপাটি করে রাখায় মূলত কাজ একজন গৃহবধূর। যদিও বেশ কিছু বছর ধরে গৃহবধুর এই কাজকে অন্যভাবে সম্মানিত করার জন্য হোম মেকার নাম দেওয়া হয়েছিল। যদিও নামেই হোম মেকার তকমা দেওয়া হতো তবে আদতে কোন সাম্মানিক প্রদর্শন করা হতো না গৃহবধূদের। তবে এইবার সুপ্রিম কোর্টের নয়া নির্দেশ অনুযায়ী গৃহবধূদের ভূমিকা “নেশন বিল্ডার্স” সাথে তুলনা টেনে দেওয়া হলো।
সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশ বা রায় অনুযায়ী গৃহবধূদের অবদানকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। এর কারণ ভারতের প্রায় ২১.১ কোটি নারী বিয়ের পর গৃহস্থালির কাজ প্রধান পেশা হয়ে দাঁড়ায়। কোন নারীকে বিয়ের পর নির্দিষ্ট চাকরি ছেড়ে দিয়ে সংসারের কাজকেই প্রধান কাজ হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য করা হয়। অন্যদিকে অনেক নারী স্ব-ইচ্ছায় সংসারের সমস্ত কাজ করে থাকেন। একজন নারী ৭ থেকে ৮ ঘন্টা দৈনিক সংসারের জন্য উৎসর্গ করে দেন। যদিও ভারতের জিডিপিতে একজন গৃহবধুর অবদান কে সম্মানিত করা হলেও ভারতের অর্থনৈতিক মূল্যায়নে গৃহবধূদের জন্য আলাদা করে কোন সম্মান প্রদর্শন করা হয় না। একজন কর্মরতা মহিলার যে পরিমাণ সম্মান দেওয়া হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে একজন গৃহবধূ তেমন সম্মান দেওয়া হয় না। দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘন্টা অক্লান্ত পরিশ্রম করার পর তাদের কপালে অবজ্ঞা বা লাঞ্ছনায় জোটে। শুধু তাই নয় একজন পরিবারের পুরুষ সদস্য রীতিমতো একজন গৃহবধুর কাজকে খুব ছোট করে দেখেন। অথচ কোন পুরুষ মানুষ যদি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এই কাজগুলো নিজের দায়িত্বে করতে চান তবে তাদের একদিনে কাজ করেই হাঁফিয়ে উঠে যাওয়ার মতন অবস্থা হবে। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় এইরকম অক্লান্ত পরিশ্রম করার পর কোনরকম সম্মান দেওয়া হয় না, অবজ্ঞা ও লাঞ্ছনার জন্য আত্মহননের মতন পথ বেছে নেয় গৃহবধূরা।
২০২৬-এ দাঁড়িয়েও একজন গৃহবধূকে এইরকমই অবজ্ঞার পাত্রী হিসেবে দেখা হয়। তবে সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার গালে সপাটে চড় বসিয়ে দিলো। পথ দুর্ঘটনায় একজন গৃহবধুর ক্ষতিপূরণের পরিমাণের হিসাব করতে গিয়ে বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন কোটেশ্বর সিঙের বেঞ্চ গৃহবধূদের নেশন বিল্ডার্স অর্থাৎ জাতির কারিগর হিসাবে তুলনা করেছেন। হঠাৎ কোনো পথ দুর্ঘটনায় একজন গৃহবধূর মৃত্যু হলে গৃহস্থালি ও পরিচর্যা ক্ষতি হিসাব অনুযায়ী আর্থিক মূল্য প্রত্যেক মাসের ৩০ হাজার টাকা হিসেব ধরে গণ্য করতে হবে।
আরোও পড়ুন: চালু হয়ে গেল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প! কোন কোন যোগ্যতা থাকলে পাবেন আয়ুষ্মান ভারত কার্ড?
এই রায়ের ফলে সে সমস্ত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ব্যক্তিদের মনের ধারণাকে পরিবর্তন করতে বাধ্য করতে বলা হয়েছে। যে সমস্ত পুরুষ গৃহবধূদের অবদানকে খুবই ছোট করে দেখতেন, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে বাধতো, সুপ্রিম কোর্টের রায় সেই ধারণাকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। একজন গৃহবধূর সন্তান লালন পালন থেকে শুরু করে পরিবারের পরিজনদের দেখভাল থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি পরিষ্কার পরিচর্যার এই কাজকে দেশের ও সমাজের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বিশেষ ভূমিকা রাখে তেমনটাই বোঝাতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আশা করা যায় সুপ্রিম কোর্টের এই রায় পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব সম্পন্ন ব্যক্তিদের মনের ভাব ধারণাকে পরিবর্তন করতে পারবে যার ফলে আগামীতে প্রত্যেকটি গৃহবধূ সঠিক সম্মান পাবে।