হকার উচ্ছেদের মাঝে হাওড়ার মঙ্গলা হাটে হকারদের বসার অনুমতি মিললো, তবে বিশেষ শর্তে।

Hawker eviction(হকার উচ্ছেদ)

বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিমূলক প্রকল্প যেমন পূরণ করতে শুরু করেছেন ইতিমধ্যে তেমনি স্বচ্ছ মিশন থেকে শুরু করে স্মার্ট সিটি বানানোর পূর্ব পরিকল্পনাও কিন্তু ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন রেলস্টেশন থেকে হকার উচ্ছদের মতন ঘটনা। যে সমস্ত হকারদের রেলের রেজিস্ট্রেশন করা ছিল না, অথচ রেল স্টেশন চত্বরে দখল করে ব্যবসা করছিলেন সেই সমস্ত হকারদের স্টেশন থেকে উঠে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই হকার উচ্ছেদ ঘটনা কিছু জনগণের বিপক্ষে ছিল আবার কিছু জনগণের কাছে এটি যথার্থ মনে হয়েছে।

আগে শিয়ালদহ বা হাওড়ার মতন জনবহুল স্টেশন গুলিতে হকারদের জন্য ঠিকঠাক মতন হাঁটাচলা করতে পারতেন না সাধারণ পথচারী। কিন্তু বর্তমানে হকারদের উচ্ছেদ করার পরে শিয়ালদা বা হাওড়ার মতন বড় ও জনবহুল স্টেশন গুলিতে একদম ফাঁকা হওয়ায় যাতায়াতের অনেকটা সুবিধা হয়েছে সাধারণ রেল যাত্রীদের। তবে এর মধ্যেই বিভিন্ন রাস্তা ও স্টেশন থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়ার পর হকারদের মধ্যে তীব্র আন্দোলন দেখা গিয়েছিল। এইসবের মধ্যেই বিজেপি সরকার হাওড়ার মঙ্গলা হাটে ব্যবসায়ী হকারদের বসার অনুমতি দিলেন। তবে সপ্তাহে দুই দিন বসা যাবে এমনটাই শর্ত বেঁধে দেওয়া হল।

হকার উচ্ছেদ

বড় রাস্তার ফুটপাত হোক কিংবা স্টেশন চত্বর কোন জায়গাতেই রাস্তা দখল করে বা স্টেশন দখল করে হকারদের বসা যাবে না এমনটাই বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকার। যদিও হকারদের মধ্যে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল সরকারের বিরুদ্ধে। কারণ তাদের পেট চালানোর রুজি রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। তবে এইসবের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি পেলেন হাওড়ার মঙ্গলা হাটের হকার ব্যবসায়ীরা। হাওড়ার সিটি পুলিশ হাওড়ার ময়দানে সোম ও মঙ্গলবার সপ্তাহের এই দুই দিন বসার অনুমতি দিয়েছে মঙ্গলা হাটের হকারদের।

আরোও পড়ুন: Central Board of Secondary Education News: CBSE দশম শ্রেণির দ্বিতীয় বোর্ড পরীক্ষা ২০২৬, ফলাফল প্রকাশ! কিভাবে জানবেন?

বিজেপি সরকারের তরফ থেকে যখন মঙ্গলা হাটে হকারদের বসার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল তারপরেও কিছু হকার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাওড়ার ময়দানের ফুটপাতে ব্যবসা করছিলেন। সে সমস্ত ব্যবসায়ী হকারদের জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এরপরেই হকারদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তারা বিক্ষোভ করে। হাওড়া জেলা শাসক থেকে শুরু করে থানা, পুলিশ কমিশনারের কাছে তারা স্মারকলিপি জমা দেন। হাওড়া জেলাশাসকের সাথে বৈঠকে বসেন হাওড়া ময়দানের হকাররা। এই বৈঠকের পরেই হাওড়া সিটি পুলিশ সপ্তাহে দুই দিন সোম ও মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বসার অনুমতি দেয়। তবে সকাল আটটার মধ্যেই সমস্ত মালপত্র উঠিয়ে নিতে হবে এমনটাই বলে দেওয়া হয়। এমনকি ফুটপাতের কোন অংশে বসে শুধুমাত্র তারা জামা কাপড় বিক্রি করতে পারবেন সেটাও চিহ্নিত করে দেন হাওড়া সিটি পুলিশ।

তবে হাওড়া সিটি পুলিশের এই উদ্যোগে আপাতত খুশি হয়েছেন হাওড়া ময়দানের হকার ব্যবসায়ীরা। তাদের রুজি রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ না হয়ে গিয়ে কিছুটা ব্যবসা করতে দেওয়ার এই অনুমতি তাদেরকে অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *